গাজীপুর সিটি নির্বাচন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় আবহ

গাজীপুর সিটি

আগামী ১৫মের ভোট যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দামামা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। সবার তীক্ষè দৃষ্টি এখন এই নির্বাচনের দিকে। জাতীয় নির্বাচনের কয়েকমাস আগে সরকার ও বিরোধী দল নিজেদের জনপ্রিয়তা ঝাঁচাইয়ের লড়াইয়ে নেমেছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত জাতীয় ইস্যুগুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে। আড়ালে থেকে যাচ্ছে নির্বাচনী ইসতিহার ও সাধারণ ভোটারদের চাওয়া ও পাওয়া।
আগামী ১৫মের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রধান প্রতিদ্বন্ধি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির বাদানুবাদ ও নানা অভিযোগে এখন উত্তাল সিটি নির্বাচনের এলাকা। এখানে প্রার্থী নয় দুই দলের উত্তাপ সময়ের সাথে সাথে যেন সমানে বাড়ছে। উভয় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরামহীন প্রচারণায় তৈরী হচ্ছে জাতীয় আবহ। নির্বাচন অনুষ্ঠান দৃশ্যত জাহাঙ্গীর আলম ও হাসান সরকারের মধ্যে হলেও আসল লড়াইটা হচ্ছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে।
গাজীপুর সিটি নির্বাচন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখানে দলীয় প্রার্থীর দিকে ভোটারদের আগ্রহ কম, কারন উভয় দলের প্রার্র্থীদের ভোটারদের মন জয় করার মত ক্যারিশমার অভাব, প্রথম বারের মত নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মাধ্যমে আয়োজিত এই নির্বাচনে দলের গুনাগুন বিবেচনা করেই ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। এছাড়াও দলীয় ভোট ও দলের বাহিরের ভোট নিজের বাক্সে আনার দক্ষতা ও তরুণ ভোটারদের মন জয় করার মাধ্যমে যে প্রার্থী দক্ষতা দেখাতে পারবেন তার হাতেই উঠতে পারে এই নগরপিতার মুকুট।
এই নির্বাচনের ৫৭টি ওয়ার্ডে দায়িত্বে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ৫৭ জন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা। প্রতিদিনই তাদের প্রচারণায় মুখরিহ হয় অলিগলি। তাদের প্রচারণায় প্রথমেই থাকছে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ধানের শীষে ভোট কামনা করার বিষয়টি। এছাড়াও সরকার বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের সহমর্মীতা পেতে জোড়ালো ভূমিকা রাখছেন তারা।
্িবএনপি যেমন ভোটারদের সহমর্মীতা পেতে নানাধরনের প্রচার চালাচ্ছেন, তেমনি আবার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য নৌকা প্রতীকের ভোট কামনা করছেন। তাদের দাবী নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, সিটি কর্পোরেশনের সুবিদা পাবে ভোটাররা। উভয় দলের আশেপাশের জেলা ও উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মীর প্রতিদিনকার আগমন চোখে পড়ার মত।

আয়তনের দিক দিয়ে দেশের সর্বোবৃহৎ এই সিটির ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন আগামী ১৫মে। এ লক্ষে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পূর্ব অনুষ্ঠান চলছে।

Leave a Reply