কালিয়াকৈরে সড়ক দখল করে দোকান নির্মাণ

কালিয়াকৈর

কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়ায় মাইন উদ্দিন দেওয়ান সড়ক দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও লোকজনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সড়কের পাশ থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ মণ্ডলপাড়া পৌরসভা গঠনের আগে মৌচাক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন লোকজনের চলাচলের জন্য মোল্লাপাড়া থেকে মণ্ডলপাড়া পর্যন্ত সরকারিভাবে একটি কাঁচা রাস্তা তৈরি করা হয়, যা সরকারি হালট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সরকারিভাবে এর প্রস্থ ছিল ৫০ থেকে ৬০ ফুট। পরে ২০০১ সালে পৌরসভা গঠনের পর কাঁচা রাস্তা পাকা করা হয়, যার নামকরণ করা হয় মাইন উদ্দিন দেওয়ান সড়ক। কিন্তু গত কয়েক বছরে স্থানীয় লতিফ দেওয়ান সড়ক দখল করে অর্ধশতাধিক দোকান ও ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়েছেন। এ ছাড়া আনোয়ার হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি সড়ক ঘেঁষে দেয়াল তুলেছেন। এর ফলে সড়কটি একেবারে সরু হয়ে গেছে। ৫০ ফুটের জায়গায় সড়কটির বর্তমানে ১২-১৩ ফুট প্রস্থ হয়েছে। অথচ এ সড়ক দিয়ে এলাকায় গড়ে ওঠা ২০-২৫টি কারখানার শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজন চলাচল করে। সড়ক সরু হয়ে যাওয়ার ফলে একসঙ্গে দুটি রিকশা পার হতে সমস্যা হচ্ছে। সড়কের পাশের অবৈধ দোকান সরিয়ে নিতে বললেও লতিফ দেওয়ান শুনছেন না। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্থানীয় সার্ভেয়ার নিয়ে সড়কটি মেপে জানতে পারেন ওই সড়ক অনেক সরু করা হয়েছে। ফলে এলাকাবাসী দোকানপাট সরিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে রকিব উদ্দিন দেওয়ান রতন, আইয়ুব মণ্ডল, শামছুল হক বয়াতি, রিয়াজ মেলেটারি, আব্দুর রহমান খান, আব্দুল হালিম, আব্দুল গফুর, শফি মণ্ডল, আসমান মণ্ডল, আবুল হোসেন, মহসিন মোল্লাসহ শ শ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিল।

আইয়ুব মণ্ডল বলেন, ‘সরকারি রাস্তা নকশায় ৫০-৬০ ফুট প্রস্থ; কিন্তু বাস্তবে এটির ১২-১৩ ফুট প্রস্থ। স্থানীয় লতিফ দেওয়ানসহ কয়েকজন সড়কের পাশে দোকানপাট নির্মাণ করে সড়ক সরু করে দিয়েছে।’

অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ দেওয়ান বলেন, ‘আমি সড়কের কোনো জমি দখল করিনি। সড়ক নির্মাণের আগেই আমি বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করেছি। দীর্ঘদিন পর জানতে পারি এটি সড়কের জায়গা।’

কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মুজিবর রহমান বলেন, ‘জনগণের সুবিধার জন্য রাস্তা করা হয়েছে। সেটা সরু হয়ে গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’

সূত্র:কালের কণ্ঠ

Leave a Reply