সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলায় একাধিক সেতু ও কালভার্ট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে স্থানীয় জনগণ। কোনোটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি। আবার মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে আছে কোনো কোনো সেতু।

বাসাইলে মাঝনদীতে সেতু

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) টাঙ্গাইল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে দেলদুয়ারের নাটিয়াপাড়া থেকে বাসাইলের কাঞ্চনপুর সড়কের ঝিনাই নদীর ওপর ১০৮ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয়।

২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট ভোরে বালু বহনকারী একটি ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর একটি পিলার এবং ওপরের কিছু অংশ ভেঙে যায়। তখন যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সালে কাশিল-নাটিয়াপাড়া সড়কের ঝিনাই নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় চার বছর ব্যবহারের পর পিলারের নিচের মাটি সরে গিয়ে কিছু অংশ ভেঙে যায়। ফলে এখানেও যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে দুটি সেতুই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুটি সেতু না থাকায় বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মির্জাপুরের আদাবাড়ী গহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাসাইলের কাঞ্চনপুর এলাহিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা, কাঞ্চনপুর গোলাম রব্বান খান উচ্চ বিদ্যালয়, স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিল আব্দুল খালেক আব্দুল কাদের দাখিল মাদরাসা, হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর, দেলদুয়ার, সখীপুর উপজেলার জনসাধারণকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় কাঞ্চনপুর ও হাবলা বাজারে চলাচল করতে হয়।

কাশিল কেবিএন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী মিম আক্তার বলে, খেয়া নৌকায় পার হতে ৩০ মিনিটেরও বেশি লাগে। ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেরি হয়ে যায়।

কাশিল কেবিএন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী খান বলেন, প্রায় আট বছর ধরে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। কবে যে সেতুর কাজ শুরু হবে তা কেউ বলতে পারছে না।

বাসাইল বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বিপুল পরিমাণ সবজি চাষ হয়। সেতু না থাকায় সবজি সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কাশিল, কাঞ্চনপুর সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এলজিইডির একটি দল সরেজমিনে দেখে গেছে। সেতু দুটি এখন নকশাপ্রক্রিয়ায় আছে। আশা করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু হবে।’

নাগরপুরে কাজে আসছে না কালভার্ট

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুদনগর পূর্বপাড়ার ফরিদ সিকদারের বাড়ির কাছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২০ ফুট কালভার্ট নির্মাণ করে। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের ২৫ জুন নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক না করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার চলে যান। এরপর এত দিনেও কালভার্টের উভয় পাশে আর সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এ বিষয়ে মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শ্রমিক নিয়ে সেখানে কিছু মাটি ফেলা হয়েছে; কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। সংযোগ সড়ক করতে অনেক মাটি লাগে। কালভার্টের উভয় পাশে আবাদি জমি। সেখান থেকে কেউ মাটি দিতে চায় না।

টাঙ্গাইল সদরে সংযোগ সড়ক নেই

দিঘুলিয়া ও কালিপুরে দুটি খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অথচ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কালভার্ট দুটি কোনো কাজে আসছে না। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনের। মানুষ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, আদালত চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সহজে যাতায়াত করতে পারছে না।

এলাকাবাসী জানায়, তিন বছর আগে লৌহজং নদীর পার ঘেঁষে শহরের দিঘুলিয়া লাল সেতুর পাশ থেকে শহীদ মিজানুর রহমান স্কুল পর্যন্ত রাস্তার কাজ করে টাঙ্গাইল পৌরসভা। এর পরে ওই এলাকার দুটি খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।

টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড থেকে সন্তোষ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার পথে গাইজাবাড়ী খালের ওপর প্রথম কালভার্ট। সেখান থেকে ৫০০ মিটার উত্তর দিকে দ্বিতীয়টি। কালিপুর থেকে সাকরাইল যাওয়ার পথে একটি খালের ওপর এটি নির্মিত হয়েছে।

স্থানীয় আবু সাইদ ও মাসুদ মিয়া জানান, খালটি লৌহজং নদী থেকে শুরু করে কালিপুর হয়ে সন্তোষ ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছন দিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। এখানে কালভার্ট হয়েছে অনেক দিন; কিন্তু রাস্তা হয়নি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। বরাদ্দ এলে সংযোগ সড়ক করে কালভার্ট দুটি চালু করা হবে।

Leave a Reply