এবার গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে নীলনকশা চলছে : রিজভী

গাজীপুর সিটি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নিয়ে সরকারের ক্ষমতাসীন মহলের এক গভীর নীলনকশার বীভৎস আভাস ফুটে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমপি-মন্ত্রীরা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে না, এটা যে কতটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার তার আরও একটি উদাহারণ হলো গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রবিবার টঙ্গীতে এক স্থানীয় এমপির বাসায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপির সভাপতিত্বে এমপি-মন্ত্রীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড.আব্দুর রাজ্জাক এমপি, কর্নেল ফারুক খান এমপি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, ডা. দিপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী এমপি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রমুখ।

গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, যে নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্ব মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। যে নির্বাচনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জাল ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়মের তদন্ত দাবি করছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় এটাই প্রমাণিত হলো যে, ভোট ডাকাতির হুকুমদাতা সরকারের শীর্ষ নেতারা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে আগামী নির্বাচনও হবে খুলনা মডেলে। আর তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে বিরোধী দলগুলোর জন্য আত্মঘাতী।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা দলীয় মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের যে রকম নিয়ম, তাতে আমাদের হাত-পা বাঁধা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলতে চাই নির্বাচন কমিশনে আপনাদের পছন্দের লোকজনদেরকে ঢুকিয়ে আপনারা সুষ্ঠু ভোট যাতে না হয় সে জন্য হাত-পা বেঁধে দিয়েছেন। ইসি খুলনাতে সরকারে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে মাত্র। ইসি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্বর্ণালী বাহিনী নন, বরং এখন তারা খাঁচায় পোরা তোতা পাখি।’

এ কারণে নির্বাচনের পর লজ্জায় আজও নির্বাচন কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা। এ সময় বিরোধী দলের তরুণ নেতাদের মিথ্যা মামলায় আটকে রাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

Leave a Reply