কালিয়াকৈরে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মাসে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

কালিয়াকৈর

কালিয়াকৈর উপজেলার সাতটি আঞ্চলিক সড়ক থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কমপক্ষে সাতটি আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী দুই সহস্রাধিক ছোট পরিবহন চালকদের প্রতিনিয়তই চাঁদা দিয়ে যানবাহন চালানোর অনুমতি নিতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে আদায় করা ২০ লাখ টাকা ক্ষমতাসীন দলের নেতা, বিএনপিপন্থি পরিবহন নেতা, শ্রমিক নেতা, পরিবহন সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের পকেটে ঢুকছে।

ওই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলে অটোরিকশা বা ইজিবাইক চালককে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে কিংবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তাদের যানবাহনগুলো।

পরিবহনের মালিক, শ্রমিকদের দাবি- পরিবহন থেকে আদায় করা চাঁদার টাকা, লাইনম্যানের বেতন, অফিস খরচ ও দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাড়ইপাড়া-মহরাবহ সড়কে দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩৫ টাকা ও মাসিক দুইশত টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ওই চাঁদার টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন ওই

সড়কে শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি মতিয়ার রহমান ও লাইনম্যান আবদুস সালাম।

অপরদিকে কালিয়াকৈর বাসস্টেশন এলাকা থেকে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়ক, বোর্ডঘর হয়ে ভাউমানটালাবহ, কালিয়াকৈর কলেজ রোড হতে ধামরাইয়ের ধানতারা বাজার এলাকায় ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ সাড়ে তিন শতাধিক ছোট পরিবহন চলাচল করছে। ওই সব পরিবহন থেকে প্রতিদিন ৩৫ টাকা এবং প্রতি মাসে আরও দুইশত টাকা মাসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

ওই স্টেশনের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইজুদ্দিন সাজু জানান, ওই সব পরিবহনের চালকের কাছ থেকে যে চাঁদা আদায় করা হয় তা লাইনম্যানের বেতনসহ মালিককে ৫, মালিক সমিতিকে ৫, শ্রমিক সমিতিকে ৫, পৌর ট্যাক্স ৫, শ্রমিক কল্যাণে ১০ আর বাকি ৫ টাকা অফিস খরচ করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত তহবিল থাকলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের মাঝে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

চন্দ্রা কালামপুর থেকে ভাওয়াল মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৮০টি অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এখানেও প্রতিদিন প্রতিটি বাহন থেকে ৩৫ টাকা চাঁদা ও মাসিক দুইশত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এখানের লাইনম্যান সেলিম হোসেন, মোয়ালেম হোসেন, ফারুক হোসেন চাঁদা আদায় ও যানবাহনের

সিরিয়াল দিয়ে থাকেন। এখানকার পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, যে টাকা তোলা হয় তা ওপরের নেতাদের কাছে জমা দেওয়া হয়। এ টাকা থেকে লাইনম্যানকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু চালকদের অভিযোগ, তাদের দাবি করা চাঁদা দিতে না চাইলে তারা যাত্রী তুলতে দেয় না। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রতিদিন সাভার, ঢাকা থেকে শত শত অটোরিকশা চালক যাত্রী নিয়ে আসেন। ওই সব চালক ফিরতি যাত্রী তুলতে গেলেই ওই সংগঠনের নেতাদের ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে।

অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সফিপুর- বড়ইবাড়ী সড়কে প্রতিদিন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলছে আড়াই শতাধিক। এখানে প্রতি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩৫ টাকা। তাদের আদায় করা টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর খানের সমর্থিত শহীদ ও পারফুল ইসলাম নামের দুই কর্মী। এখানে লাইনম্যান হিসেবে চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন নুরুল ইসলাম ও রুহুল আমিন।

সফিপুর বাজার-মাঝুখান সড়কেও শতাধিক অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই চাঁদা তোলা হচ্ছে। এখানে আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি এ চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল আলম জানান, বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply