কালীগঞ্জে যুবলীগের এক নেতাকে ফাঁসাতে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

কালীগঞ্জ

কালীগঞ্জে মো. মোমেন মিয়া (৩৮) নামের এক আওয়ামী যুবলীগের নেতাকে ফাঁসাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি ফেইক আইডি থেকে অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৬ মে দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে নাগরী ইউনিয়ন যুবলীগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

তিন সন্তানের জনক যুবলীগ নেতা মোমেন উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের সেনপাড়া গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানী।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরী ইউনিয়ন যুবলীগ সহ-সভাপতি মো. জুলহাস মিয়া বলেন, গত ২১ মে আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে জানতে পারেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মাদক মুক্ত সমাজ’ নামের একটি ফেইক আইডিতে তাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তার ছবি সম্বলিত ফেষ্টুনের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তারা থানা পুলিশকে অবগত করে একটি জিডি করার পরামর্শ দেন। পরের দিন ২২ মে নিজের নিরাপত্তা ও ক্ষতি সাধনের ভয়ে মোমেন মিয়া বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি জিডি (নং ৮৬৭) করেন।

ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোর্শেদ খান স্বপন বলেন, নাগরী ইউনিয়ন যুবলীগ সব সময় মাদকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। আর কমিটিতে যারা আছে তারা সবাই পরীক্ষিত। এখানে কোন মাদক সেবনকারী বা ব্যবসায়ীর স্থান নেই। কেউ নাগরী যুবলীগের ইমেজ নষ্ট করতে এসব করছে।

ভোক্তভোগী যুবলীগ নেতা মোমেন মিয়া বলেন, ওই ফেইক আইডিতে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তাতে মনে হয় কেউ আমার এবং দলের ক্ষতির জন্যই এসব করছে। মাদক বা ইয়াবা ব্যবসা তো দূরের কথা কোনদিন এক সলা সিগারেট মুখে দিয়েও দেখেননি বলে দাবি করেন তিনি।

সম্মেলনে উপস্থিত নাগরী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলু রোজারিও বলেন, তারা চার ভাই তিন বোন। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। মোমেন নিজে মুদি দোকান করে খায়। অন্য ভাইয়েরাও সবাই কাজকর্ম করে খায়। বাবাও একজন মুদি দোকানী। আমি বিগত ২০ ধরে এই ওয়ার্ডের মেম্বার আমার জানা মতে তার কোন খারাপ কাজ দেখি নাই। তাছাড়া মাদক ব্যবসা বা সেবনের সাথে সে জড়িত না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান, ওই ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেক লীগের সাবেক সভাপতি মফিজ মিয়া, ব্যবসায়ী মুনসুর আলী, পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও সজিব মিয়া।

জানা গেছে, মোমেন মিয়া ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের একজন সদস্য। অতি সম্প্রতি ইউনিয়ন যুবলীগের শেষ হয়ে যাওয়া সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিলেন। সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তার পদ নির্ধারন হয়নি। তবে সেখানে তাকে দায়িত্বশীল পদে রাখা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুবকর মিয়া সাধারণ ডায়েরীর বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার জানা মতে থানায় তার নামে মাদক মামলা তো নাই, কোন মামলাই নেই। হতে পারে কেউ তার ক্ষতির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ফেইক আইডি দিয়ে অপপ্রচার করছে।

Leave a Reply