কূটনীতিকদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর কী আলোচনা হলো?

জাতীয়
election news
news portal website developers

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে কি না সেটি নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে এ বৈঠকটি সকাল সাড়ে আটটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিতি একজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে পরিবেশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা।

এ বৈঠকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস-এর রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে এ বৈঠকে বিএনপি’র দিক থেকে যোগ দিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান।

আওয়ামী লীগের তরফ থেকে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ। এছাড়া বিকল্প ধারা বাংলাদেশে সদ্য যোগদানকারী শমসের মবিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুর্শেদ।

বদিউল আলম মজুমদার বিবিসি জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশন যাতে নিরপেক্ষতার সাথে রেফারির ভূমিকা পালন করে সেটি তুলে ধরেছেন তিনি।

নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা সেটি ভেবে দেখতে হবে। বিগত কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

প্রথমত, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং নানা ধরণের মামলার মাধ্যমে ঘরছাড়া করা। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে, ভোটের দিন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া এবং সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে, ভোট কেন্দ্র আংশিক কিংবা পুরোপুরি দখল করা।

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সময় এ ধরণের পরিস্থিতি ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের দল কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে সে বিষয়টি তারা তুলে ধরেছেন।

চৌধুরী বলেন, ‘এখন তো সরকার আর নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে গেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রোটেকশন করতেই ব্যস্ত। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা, আমরা প্র্যাকটিকালি নিচের দিকে যাচ্ছি।’

এ বৈঠকে বিএনপির দিকে থেকে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন অতীতে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন মোটামুটি একটি শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের অন্যতম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।

‘তারা (বিএনপি) কমপ্লেইন দিয়েছে যে আমাদের ক্যান্ডিডেটকে বাতিল করা হয়েছে। আমাদের কথা হলো এটা তো আমাদের দায়িত্ব না। এটা তো ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই,’ বলেন মেহজাবিন খালেদ।

মেহজাবিন খালেদ এ আয়োজনকে বৈঠক বলতে রাজী নন। তিনি বলছেন, এটি ছিল কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি ব্রেকফাস্ট’। তারা বিভিন্ন সময় এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে নানা বিষয়ের উপর আলোচনা হয়।

এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের দিক থেকে তেমন কোন মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো তারা শুধু শুনেছেন কূটনীতিকরা।

তবে মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট-এর (এনডিআই) একজন প্রতিনিধি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নারীরা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেদিকে সবার নজর দেয়া উচিত।